
গাজী জহিরুল ইসলামঃ চার সন্তানের জননী এক সময় স্বামীর অকাল মৃত্যুতে ছেলে মেয়েকে লালন-পালন করে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে প্রায় ২০ বছর জীবন সংগ্রাম আর পারিশ্রমিক যুদ্ধের উপার্জনের অর্থ দিয়ে ছেলে সন্তানকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বরিশাল বাবুগঞ্জের স্বামীহারা তাহমিনা বেগম (৬৫)।
রোববার ২৫ অক্টোবর ২০২৬ দুপুরে বরিশাল বাবুগঞ্জের এক বাসা থেকে তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বরিশাল দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত্যু কদম আলী হাওলদারের স্ত্রী। উপজেলা নতুন হাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একা বসবাস করছিলেন তিনি। বাড়ির মালিক আব্দুল বারেক বলেন, প্রায় তিন মাস পূর্বে তাহমিনা বেগমের বড় ভাই বাসা ভাড়া করে দেন, তিনি বলেন মাঝে মধ্যে বাজারের বিভিন্ন দোকানের সামনে ঘুরাফেরা করতে দেখা যেত। কিন্তু, কয়েকদিন যাবত তাকে বাইরে দেখা যায়নি, শনিবার বিকেল থেকে বাসার আশেপাশে দুর্গন্ধ অনুভব করা গেছে। তিনি ভেবেছেন বাসার আশেপাশে হয়তবা কোথায়ও কোন ইঁদুর মরে পঁচে রয়েছে।
রবিবার সকালে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাহমিনা বেগমের রুমের সামনে বুঝতে পারেন সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। তখন তাৎক্ষণিক তাহমিনা বেগমের বড় ভাইকে এই বিষয়টি অবগত করেন,পরে মৃত ব্যক্তির বড় ভাই এসে দেখেন রুমে দরজা একটু খোলা ভিতরে প্রবেশ করে ছোট বোনের মোরদেহ দেখতে পেয়েছেন। তখন সাথে সাথে বাবুগঞ্জ থানায় ফোন করে বিষয়টি অবগত করেন। পুলিশ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখেন তামিনা বেগমের মোরদেহ পড়ে আছে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ ধারণা করেছে এক দুদিন পূর্বে তাহমিনা বেগম বাসায় মৃত্যুবরণ করেছে। তবে বাবুগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেছেন। তদন্তের সঠিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ প্রকৃতভাবে নির্ণয় করা সম্ভব না। তিনি আরও বলেন, ওয়ারিশ সূত্রে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে আমরা সঠিক তদন্তের সাপেক্ষে বিস্তারিত বলতে পারবো।
এদিকে স্থানীয়রা বলেছে তার বড় ছেলের ঢাকা উত্তরায় ছয়তলা ভবন এবং বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে। ছোট ছেলে সেখানে কাজ করে। এছাড়া দুই বোন তাদের বিবাহিত হওয়ার পর স্বামীর সংসারে জীবন যাপন অতিবাহিত করছেন। আর অসহায় মা জননী কম বয়সে স্বামী হারা হয়ে প্রবাসের মাটিতে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বরিশাল বাবুগঞ্জ একটি ভাড়া বাসায় জীবনের শেষ সময় টুকু অতিবাহিত করতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঝরে পরেন তাহমিনা বেগম।
পার্শ্ববর্তীতে বাসার এক মহিলা শাহিনা বেগম বলেন, তাহমিনা বেগম প্রায় তিন মাস আগে এই বাসায় উঠেছেন, তিনি কয়েকবার হার্ট ষ্টোর্ক করেছেন, আমরা দেখেছি পায়ের পাতায় পানি এসে গেছে, তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দিনরাত অতিবাহিত করেছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে আমরা কাউকে দেখতে পাইনি।
তাহমিনা বেগমের মৃত্যুর পর তার ছেলেমেয়েরা গণমাধ্যমের সামনে আসতে রাজি হননি, এবং লাশের ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করতে বাধা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গরা।