
গাজী জহিরুল ইসলামঃকক্সবাজার হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে উত্তাল সাগরের তীব্র স্রোতের তোড়ে ভেসে গিয়ে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পর্যটক সাগরে তলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বিচকর্মীরা অনুসন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ রোজ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচ ঘটিকায় কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন মারিনা রিসোর্টের জাদুঘর এলাকায় সমুদ্র সৈকতে এ ভয়াবহ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে রামু উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, বিকেলে একদল পর্যটকদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতে একসঙ্গে গোসল নেমে উত্তাল সাগরের ঢেউ ও শক্তিশালী স্রোতের টানে কয়েকজন পর্যটক সাগরের গভীরে ভেসে যায়। আশে-পাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা ও বিচকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত এগিয়ে তিন পর্যটকদের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এবং একজনকে আশঙ্কাজনক ভাবে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এছাড়া মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের সূত্রে জানা যায়, এ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও উদ্ধারকৃত ব্যক্তি ও সফর সংগীতের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় আরো দু-তিনজন সাগরে তলিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের আওতায় বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানিয়েছেন,পানিতে ডুবে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নাম এবং পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সাগরে পানিতে ডুবে উদ্ধাররকৃত ব্যাক্তি ও যাঁরা সাথে ছিল তাদের নিকট যোগাযোগ করে সাগরের স্রোতে ভেসে যাওয়া পর্যটকদের জীবিত অথবা মৃত্যু অবস্থায় উদ্ধার করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং উদ্ধারকারীদল দ্রুত অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয় ও পর্যটকের সূত্রে জানা যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকরা বেড়াতে এসে এ পর্যন্ত কয়েকশত ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সাগরের পানিতে ডুবে ও রিসোর্টে বসবাস করতে গিয়ে অগ্নিকান্ডের শিকার হয়ে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যুর মিছিলে অকালে ঝড়িয়ে পরে। এই পরিপেক্ষিতে উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিকট জোড়ালো দাবী করেছেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণের মৃত্যুর মিছিলে ঝড়িয়ে না পরে সে দিকে সুদৃষ্টি দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রইল।